জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ৪ আগস্ট ২০২৪ই হাজীগঞ্জে খুনের শিকার আজাদ সরকার হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি, নিষিদ্ধ সংগঠন হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। এছাড়াও মেহেদী হাসান রাব্বি হাজীগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক আহবায়ক মিজানুর রহমান সেলিমের দোকান ভাংচুর ও লুঠপাট মামলার অন্যতম আসামি।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে মেহেদী হাসান রাব্বি পলাতক ছিলেন। তার নেতৃত্বে ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর হামলা করা হয়। গত ৪ আগস্ট বিকালে পৌরসভাধীন টোরাগড় এলাকায় সরকার বাড়ির সামনে আজাদ সরকার নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনায় গত ১৪ আগস্ট হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, খুনের শিকার আজাদ সরকারের ছেলে পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি আহমেদ কবির হিমেল সরকার। এই মামলায় ছাত্রলীগ নেতা রাব্বিসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ ও ২০/২৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এদিকে ৪ আগস্ট দুপুরে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ যুবদল নেতা মিজানুর রহমান সেলিমের ইলেট্রনিক্স পন্যের শোরুম ও গোডাউন লুঠপাট ও ভাংচুর করা হয়। এতে তিনি প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এই ঘটনায় তিনি গত ২০ আগস্ট ছাত্রলীগ নেতা রাব্বিসহ ৭৪ জনের নাম উল্লেখ ও ১৫০ জনকে আসামিকে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

এ ছাড়া রাব্বির নেতৃত্বে ১৭ জুলাই ২০২৪ হাজীগঞ্জ বাজারের ছাত্র ছাত্রীদের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা করেন।
মিছিল ছত্রভঙ্গ হওয়ার পরেরও হাজীগঞ্জ বাজের প্রতিটা প্রবেশ পথে তারা অবস্থান নিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের উপর হামলা করে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় ঢাকা থেকে হত্যা, দোকান লুটপাট ও ভাংচুর মামলার আসামি মেহেদী হাসান রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হাজীগঞ্জে নিয়ে আসা হবে বলে তিনি জানান।
