
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে অবস্থিত শৈল্পিক কারুকার্যময় হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদটি আয়তনের দিক দিয়ে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রায় ২৮,৪০০ বর্গফুট আয়তনের বিশাল এই মসজিদে একসাথে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। আর বাংলাদেশে জুমাতুল বিদা’য়ার সবচেয়ে বড় জামায়াত এই মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ বৃহৎ এই মসজিদটি দুই তলা বিশিষ্ট, মসজিদটিতে প্রায় ১২১ ফুট উঁচু একটি দৃষ্টিনন্দন মিনার ও ২টি গম্বুজ রয়েছে।
হাজী আহমদ আলী পাটোয়ারী হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ (Hajigonj Boro Masjid) প্রতিষ্ঠা করেন।
বাংলা একাদশ শতকের দিকে মকিম উদ্দিন (রঃ) নামে বুজুর্গ কামেলের বংশের শেষ পুরুষ হাজী মনিরুদ্দিন (রঃ) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি দোকান থেকে পর্যায়ক্রমে হাজীগঞ্জ গড়ে ওঠে।
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও ওয়াকীফ হাজী আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রঃ) ছিলেন মনাই হাজী (রঃ) এর প্রপৌত্র।

খড়ের তৈরি একচালা এবাদতখানা থেকে যাত্রা শুরু করে ধীরে ধীরে মসজিদটি খড়ের দোচালা এবং পরবর্তীতে টিনের দোচালা মসজিদের রূপ লাভ করে।
পরবর্তীতে ১৯৩১ খ্রিঃ বা ১৩৩৭ সন এর ১৭ আশ্বিন হযরত মাওলানা আবুল ফারাহ জৈনপুরী (রঃ) কতৃক পাকা মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করানো হয়।
মসজিদটি তৈরি করার সময় হাজীগঞ্জ বা এর আশাপাশের কোনো এলাকাতে কোনো ইট ভাটা ছিলোনা। তখন মসজিদটির উদ্যোক্তা আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রঃ) সেখানে একটি ইট ভাটা তৈরি করেন। তারপর সেখানে ইট তৈরি করে সেই ইট দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। এছাড়াও তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য জাহাজ ভাড়া করে ভারতের কলকাতায় গিয়ে লোহার বীম ও মর্মর পাথর কিনে আনেন।

পরবর্তীতে মসজিদটির নির্মাণ কাজ ১৯৩৭ খ্রিঃ দিকে শেষ হলে মর্মর পাথরের মূল মসজিদে ১৩৪৪ বঙ্গাব্দের ১০ অগ্রহায়ণ শুক্রবার জুমার দিন মসজিদে আযান দেওয়ার মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়।
সেই ঐতিহাসিক জুমার নামাজে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী একেএম ফজলুল হক, নওয়াব মোশারফ হোসেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও নওয়াবজাদা খাজা নসরুল্লাহসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
