চাঁদপুরে যাত্রী সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে লঞ্চ।

চাঁদপুরে যাত্রী সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। প্রতিদিন যেখানে আগে ঢাকা-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৪০ থেকে ৫০টির বেশি লঞ্চ চলাচল করত, সেখানে এখন চলছে মাত্র ২০-২৫টি লঞ্চ। যাত্রী সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লঞ্চ মালিকরা।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটের একাধিক সূত্রে এবং
লঞ্চ যাত্রী ঐক্য পরিষদের জরিপে দেখা যায়,
মূলত যেসব কারণে দিনদিন লঞ্চে যাত্রী কমে যাচ্ছে এর মধ্যে,
১/ চাঁদপুর-ঢাকা দূরত্ব অনুযায়ী লঞ্চে যাতায়াত সময় বেশি লাগে, যেখান কোন কোন লঞ্চ ৪-৫ ঘন্টা লাগায় সেখানে সড়ক পথে ২-৩ মধ্যে ঢাকা পৌঁছাতে পারে।
২/ লঞ্চ কতৃপক্ষের সামনে কুলিদের দ্বারা যাত্রী হয়রানি!! আচার্য জনক বিষয় এব্যাপারে লঞ্চ কতৃপক্ষ যাত্রীদের পক্ষে দাড়ায় না।
৩/ ভাড়া বৃদ্ধি (যদিও ভাড়া সরকার নির্ধারিত)
৪/ ঢাকা সদরঘাটে ইজারা প্রথা বাতিল করা হলেও ঘাটের টাকা/ফি বলে যাত্রীদের জোর করে টাকা আদায় করে।
৫/ লঞ্চ কতৃপক্ষ লঞ্চে খাবারের দাম বেশি রাখে।
মালিকরা বলছেন, এখন প্রতিটি লঞ্চ পরিচালনায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও প্রতি সার্ভিসে লোকসান গুনতে হচ্ছে ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
চাঁদপুর লঞ্চঘাটের এমভি রহমত লঞ্চের সুপারভাইজার সোহেল ও কেরানী আলমগীর বলেন, আগে বছরে দুটি ঈদসহ বিশেষ দিনগুলোতে যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকত লঞ্চ। সাধারণ সময়েও ব্যয় মেটানো যেত। এখন যাত্রী সংকটে অনেক মালিক লঞ্চ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার বলেন, সড়কপথের উন্নয়নের পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়াও এক বড় কারণ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে কম টাকায় মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চলাচল করছে। বিআইডব্লিউটিএ ও মালিকদের যৌথ উদ্যোগে লঞ্চ সার্ভিসের মান উন্নয়ন, ভাড়া হ্রাস এবং সময় বাঁচানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
লঞ্চ যাত্রী মঞ্জু আহমেদ বলেন, লঞ্চ আরামদায়ক হলেও এখন দ্রুত যাতায়াতের প্রয়োজন হয় বলে বাসে যাই। তাছাড়া এই মৌসুমে ঝড়-তুফানের ভয়ও থাকে। যদি লঞ্চগুলোকে আধুনিক করা হয়, সময় ও ভাড়া কমানো হয়, তাহলে অনেকেই আবার নদীপথে ফিরবেন।”

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক বসির আলী খান জানান, ঢাকা-চাঁদপুর রুটে সব সময়ই কিছু যাত্রী থাকে। তবে সড়ক পথে সময় কম লাগায় এখন মানুষ বাস-মাইক্রোতে করে যায়। যারা নদীপথ আরামদায়ক মনে করেন, তারাই লঞ্চে যাতায়াত করে থাকেন। শুধু আবহাওয়া খারাপ হলে ওইসব যাত্রীরা সড়ক পথে গন্তব্য যান। লঞ্চ মালিকরা একত্রিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-চাঁদপুর লঞ্চ সার্ভিস করতে পারলে যাত্রীরা আবারও লঞ্চে যাতায়াত করতে শুরু করবে। এক্ষেত্রে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।
